আইসোটোপ কাকে বলে
আইসোটোপ কাকে বলে
একই মৌলের যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে।
যেহেতু প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাই তাদের ভরসংখ্যা (mass number) ভিন্ন হয়। এক্ষেত্রে রাসায়নিক ধর্ম একই থাকে কিন্তু তাদের ভৌত ধর্মে কিছু পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
আইসোটোপ কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর আরো ভালোভাবে বোঝার জন্য আমরা কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি।
যেমন : হাইড্রোজেনে তিনটি আইসোটোপ আছে। এদের সবারই পারমাণবিক সংখ্যা ১ কিন্তু ভর সংখ্যা যথাক্রমে ১, ২, ৩।
প্রোটিয়াম (¹H) – ১টি প্রোটন, কোনো নিউট্রন নেই।
ডিউটেরিয়াম (²H) – ১টি প্রোটন, ১টি নিউট্রন।
ট্রিটিয়াম (³H) – ১টি প্রোটন, ২টি নিউট্রন।
নিচে আরো কিছু সাধারণ মৌলের আইসোটোপ দেওয়া হলো:
১. কার্বন (Carbon, C) :
* ¹²C (6 প্রোটন, 6 নিউট্রন) – প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় (~98.9%)।
* ¹³C (6 প্রোটন, 7 নিউট্রন) – প্রায় 1.1% পাওয়া যায়।
* ¹⁴C (6 প্রোটন, 8 নিউট্রন) – তেজস্ক্রিয় (Radioactive), এটি কার্বন-ডেটিংয়ে ব্যবহৃত হয়।
২. অক্সিজেন (Oxygen, O)
* ¹⁶O (8 প্রোটন, 8 নিউট্রন) – প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি (~99.76%)।
* ¹⁷O (8 প্রোটন, 9 নিউট্রন) – বিরল (~0.04%)।
* ¹⁸O (8 প্রোটন, 10 নিউট্রন) – প্রায় 0.2% পাওয়া যায়।
৩. ইউরেনিয়াম (Uranium, U)
* ²³⁵U (92 প্রোটন, 143 নিউট্রন) – নিউক্লিয়ার চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
* ²³⁸U (92 প্রোটন, 146 নিউট্রন) – প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।